রাজ্যের রাজার কাছে গেলাম... রাজামশায় একটা আর্জি নিয়ে এসেছিলাম.... রাজা- কি নাম তোমার? আর তোমার আর্জিটাই বা কি? আমি- আমার নাম নাজিম, আর আমার আর্জি হচ্ছে একটু সমাজ সেবার ব্যাপারে...। রাজা- কেমন সমাজ সেবা নাজিম? আমি- জি মানে, বলছিলাম হুজুর, যদি গরীব দু:খিদের ফ্রিতে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের ব্যাবস্থা করা যেত তবে রাজ্যের প্রজারা অনেক উপকৃত হতো। রাজা- (অট্ট হাসিতে) হা হা হা... বড়ই আজব পাগল তো তুমি, মিয়া...। আমার কাছে বলতে পারতা মসজিদে, মন্দিরে, গির্জায় শিরনী বা খিচুরি দেওয়ার জন্য। আর তুমি কিনা এসেছো ফালতু একটা বিষয় নিয়ে কথা বলতে....! আমি চমকে গেলাম। কিছু বলতে গেলাম অমনিতেই রাজা মশায় আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন- কে আছিস রে, নাজিম পাগলরে এখান থেকে তাড়িয়ে দে....। কিছু দিন পর আবার গেলাম। রাজা- কি ব্যাপার তুমি নাজিম না? আমি তো অবাক হয়ে বললাম- হুজুর আমার নাম মনে রেখেছেন? রাজা- মনে থাকবে না? তুমি যেই আজব একটা প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলে, সেটা কি ভুলা যায়? তা বলো এবার কেন আসছো? আমি- হুজুর, আমি ‘ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং’ এর ঐ বিষয়েই এসেছি। রাজা হঠাত রেগে গেলেন- কি.....! আবার? আমি- না, রাজা মশায়, এখন আপনার কাছ থেকে কিছু চাইতে আসি নাই। আমরা নিজেরাই আয়োজন করেছি। শুধু আপনাকে দাওয়াত দিতে এসেছি। রাজা কিছুটা শান্ত হয়ে- তা, আমার চেয়ে বড় কোন রাজা ছিল? যে, তোমাদের এই ফালতু প্রস্তাবটা মেনে নিল? আমি শান্ত ভঙ্গিতে (রাজা যাই বলুক, রাজাতো রাজাই) বললাম- জি, ভূলতা জেনারেল হস্পিটাল, স্পন্সর করছে। রাজা- ও আচ্ছা। এখন আমাকে কি করতে হবে? আমি- জি, কিছু করতে হবে না। শুধু আমাদের লিফলেটটা আপনাকে দিতে এসেছি। আর দাওয়াত দিতে এসেছি, আপনি ও আপনার পরিবারের সবাই যেন আসেন। এটা ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং । এতে কোন টাকা লাগবে না। রাজা আমার প্রতি আবার রাগের হুংকার ছেড়ে বললেন- নাজিম, তোমার আস্পর্দা তো কম না! তুমি আমাকে বলো, ফ্রি এর আশ্রয় নেওয়ার জন্য! যতো টাকা লাগে আমি দিবো, তবুও ফ্রিতে কাজ করাবো না। আমি বিনীত গলায়- না হুজুর মাফ করবেন। আমরা কোন টাকা নিতে পারবো না। আবারও আগের মতো চিকার দিয়ে বললেন- কে আছিস রে, নাজিম পাগলরে এখান থেকে তাড়িয়ে দে....। আমাদের ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং হয়ে গেলো। অনেক গরীব, দু:খি এসেছিল, জ্ঞানী ও মুর্খ্যরাও এসেছিলো, রাজা ও তার পরিবারের কেও আর এলেন না। তার কিছুদিন পর। ছোট রানীর বাচ্চা হবে। খুব মারাত্মক অবস্থা। ডাক্তারকে ডাকা হলো। ডাক্তার বলেছেন, সিজার করতে হবে। রানীকে হস্পিটালে নিতে হবে। ইমার্জেন্সি রক্তের প্রয়োজন হতে পারে। রানীর সাথে যার রক্তের গ্রুপ মিলে তাকে ডেকে পাঠান। রাজা তো অস্থির। কারণ, রাজা তো রাণীর রক্তের গ্রুপই জানে না। আমাকে ডেকে পাঠানো হলো। রাজা অস্থির গলায় বললেন, নাজিম, এই সমস্যায় কি করা যায়? আমি- রাজা, মশায় কোন চিন্তা কইরেন না, ‘আমারা কাঞ্চন পৌরবাসী’ এর আওতায় যারা রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করেছে তাদের লিস্ট আমার কাছে আছে। আমি সবাইকে ডেকে আনতেছি। আপনি ডাক্তারকে বলুন- তিনি যেন, দ্রুত রানীর রক্তের গ্রুপটা পরীক্ষা নেয়। আমি বের হলাম- সবাইকে ডাকার জন্য। সবাইকে ডেকে হস্পিটালে এনে জড়ো করলাম। ততোক্ষণে ডাক্তার জানালেন:- রক্তের গ্রুপ (o-) ও নেগেটিভ। ডাক্তার ও ভয় পেয়ে গেলেন। এই রক্ত তো পাওয়া মুশকিল। আমি তো- আনন্দে চিতকার দিয়ে উঠলাম। কারণ, আমাদের পুরা ক্যাম্পেইনে শুধু একজন মাত্র ও নেগেটিভ পেয়েছিলাম। বললাম- সমস্যা নাই, রহমত চাচার বড় মেয়ের রক্তের গ্রুপ ও নেগেটিভ। রাজা- কি বলো? কোন রহমত? ওই যে কাঠ কাটতো ওই রহমত? আমি- জি হুজুর। রাজা- ওরে তো ওই দিন দেখলাম, ভিক্ষা করে। শুনলাম, রহমত মারা যাওয়ার পর থেকে নাকি ওর ভিক্ষা করে চলতে হচ্ছে। আমি- হুজুর, গত বছর রহমত চাচা মারা গেছে। রাজা- ও তো ভিক্ষা করে, ও কি আমার রানীকে রক্ত দিতে পারবে? এতোক্ষণ ডাক্তার তার নিরবতা ভেঙ্গে বললেন- রাজা মশাই, আমি আগে রহমত চাচার মেয়ের রক্ত পরিক্ষা করে দেখি। ডাক্তার তার সব পরীক্ষা করে জানালেন, সব ঠিক আছে, রক্ত নেওয়া যাবে। সেই থেকে রাজা ‘আমরা কাঞ্চন পৌরবাসী সংগঠন’ এর গেঞ্জি পড়ে রাজ দরবার পরিচালনা করার শপথ নিলেন।
লেখক:

No comments:
Post a Comment