ভেবেছিলাম বিশ্বজয় করবো। তাই অনেক কিছু করার চেষ্টা করেছি। বিনিময়ে একটা তত্ত্বই শুধু শিখেছি- নাজিম, টাকা ছাড়া কিছু হয় না আর সেই টাকা গাছে ধরে না।
মাথার মধ্যে ঢুকলো আরেক বুদ্ধি, টাকা নাকি গাছে ধরে না।
যেই ভাবা সেই কাজ....!
পদার্থবিদ, রসায়নবিদ, জীববিজ্ঞানী, পরিবেশবিদ এর একটা দল গঠন করলাম। উদ্দেশ্য, টাকা পাওয়া যায় এমন গাছ তৈরী।
ওরা প্রথমে আমাকে পাগল ভেবেছিল, যখন তাদেরকে মোটা টাকার বেতন অফার করলাম ও এডভান্স কিছু মোটা অংকের টাকাও দিয়ে দিলাম তখন তো দেখি, খুব ভদ্র ভাবে তারা আমার গঠিত দলে যোগ দিয়ে, আমার কমান্ড মানতে শুরু করলো।
আমিও বুঝতে পারলাম- কথা সত্য, টাকাই কথা বলে।
আমিও বুঝতে পারলাম- কথা সত্য, টাকাই কথা বলে।
কিছু দিন পর, তাদের টাকা ধরার গাছের খবর নিলাম। দেখলাম কোন অগ্রগতি নেই।
কিছুক্ষণ বস স্টাইলে ঝাড়িটাড়ি দিলাম। বুঝতে পারলাম তারা কিছুটা আমার প্রতি মনিমালিন্য। কিন্তু কিচ্ছু করার নেই, টাকা পেলে নাকি লাত্থিও হজম হয়!
আমি ঘোষণা করে দিলাম- যদি আগামী মাসের মধ্যে আমার টাকা ধরার গাছের একটাও ফরমেট দাড় করাতে না পারো তবে বেতন দেয়া বন্ধ। চাকরীও বাদ হতে পারে। (এমনিতেই আমার পকেটের টাকা শেষের পথে)
কিছুদিন পর একটা ফরমেট উপস্থাপন করা হল।
আমি তো মহা খুশি। পারলে সবাইকে আমার তরফ থেকে একটা করে ‘নাজিম বেল’ (নোবেল এর আদলে) দেই।
যাক, দেখলাম, একটা মাঝারি সাইজের নিম গাছ। আর তাতে সবুজ অনেকগুলো পাতা। আর তার ফাকে ফাকে কতোগুলো টাকা ঝুলে আছে। আমি জিঙ্গেস করলাম, এইগুলোই কি টাকা?
বিজ্ঞানীরা বলল- হ্যা, এগুলোই টাকা।
আমি পরখ করে দেখলাম। প্রথমে বুঝতে পারলাম টাকাগুলো সাধারণ কাগজে ফটোকপি করা টাকা। তারপর ভাবলাম, বিজ্ঞানীরা যেহেতু বানাইছে সেহেতু তারাই ঠিক।
এমন কিছু জটিল প্রশ্ন নিয়ে যখন মাথাটা ভনভন করছিল- তখন ভাবছিলাম, কিভাবে প্রমাণ করবো যে, আমি টাকা ধরার গাছ উত্পাদনে সফল হয়েছি......!
হঠাত তাদের মধ্যে একজন, বললো- স্যার, আমরা তো একটা টাকা ধরার গাছ বানিয়েছি। আমাদের এখন অনেক টাকা বখশিস দিতে হবে।
আমিও মনে মনে ইউরেকা, ইউরেকা বলে ফেললাম। কারণ প্রমাণ করার সুযোগ পেয়ে গেছি।
আমি তাদেরকে অফার করলাম- এই গাছে যতো টাকা আছে, সব তোমাদের।
এই কথাটা শেষ করতে পারলাম না, অমনিতেই তারা আমাকে ধরে ঐ গাছের নিচে বেধে চলে গেল।
অনেক কান্না পেলো। আমি কাদছি আর কাদছি।
এমন সময় একটা কাঠুরে এলো, আমাকে বললো- কি হয়েছে?
আমি- আমাকে এখান থেকে মুক্ত করে দাও।
কাঠুরে আমাকে মুক্ত করে দিল। আমি খুশি হয়ে তাকে এই গাছটি উপহার দিতে চাইলাম। কাঠুরেও বুঝতে পারলো, আমি খুব কষ্টে আছি তাই সে আমাকে কিছু টাকা সাধলো। আমি বললাম- আমাকে টাকা সাধছো কেন?
কাঠুরে- এটা আপনার প্রাপ্য। আপনার এই নীম গাছটা আমি বাজারে বিক্রি করতে পারবো। আর যদি বিক্রি নাও করি এই নিম গাছের পাতা দিয়ে ঔষধ তৈরি করতে পারবো। তা বাজারে বিক্রি করতে পারবো। ঐ লাভের থেকেই আপনাকে কিছুটা দিচ্ছি।
আমি অবাক হয়ে কাঠুরের বক্তব্য শুনলাম।
তখন থেকে ভাবছি, সত্যিই তো গাছেই তো টাকা ধরে......!
গাছ লাগানোর চেয়ে বড় বিশ্বজয় আর কোথায় আছে?
(আমরা কাঞ্চন পৌরবাসীর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। আপনিও আমাদের সাথে যোগ দিন।)

No comments:
Post a Comment