17.1.17

বিবেক

বিবেক

ধপাস করে একটা শব্দ...
এই শব্দটার জন্য একটু একটু ভয় কাজ করছিল রুবেলের...।
কখন যেন শব্দটা ভেসে আসে কানে......! এর জন্যই আতঙ্কে ছিলেন রুবেল।
রুবেলের একটা দোকান আছে কাঞ্চন বাজারে। এর আয় থেকেই রুবেলের পরিবার নির্ভরশীল।
ফিরে তাকাতেই দেখলেন, সেই চেনা ভংগি, চেনা কণ্ঠস্বর-‘ওই চান্দা দে...!’
রুবেল প্রথমে একটু ভয় পেলো বটে কিন্তু আজ কেমন যেন একটু অন্য মনস্ক হয়ে গেলো রুবেল।
রুবেল এর হাত টা ক্যাশ বাক্সে না গিয়ে কি যেন বলতে চাচ্ছে রুবেল।
আবার সেই কণ্ঠ- কিরে কি কইলাম, শুনস নাই? কিছু কবি মনে হয়...!
রুবেল- জি মানে একটা আর্জি ছিল।
কণ্ঠস্বর ক্ষিপ্র- আরে বেটা কি কবি তাড়াতাড়ি ক।
রুবেল- আমি তো প্রতিদিন-ই আপনাদের চান্দা দিই। আজ একটু চান্দাটা হালাল করে দিই। আপনার টাকাটাও হালাল হবে, আমারও খুব ঊপকার হবে।
কণ্ঠস্বরে এবার হাসি- হা হা হা... তুই দেখি আমার লগে মশকরা শুরু করছস......। তরে তো দেখতাম আমারে দেখলেই হাত পা কাঁপত আইজ আবার কি হইল? যা তর মশকরা আমার ভালো লাগছে। বল তর কি করতে হইব। কারে মাডার করতে হইব নাকি হাত পা ভাংতে হইব?
রুবেল খুব বিনিত ভাবে বলল- না জনাব, আমার একজন কে একটু জাগাইয়া দিতে হবে...।
কণ্ঠস্বরের হাসি টা থেমে গেলো- কি কস? আমি চিরতরে ঘুম পাতাইয়া দিতে পারি। আর তুই কছ জাগাইয়া দিতে!
বুবেল- জি, আমার এক বন্ধু ঘুমাইয়া রইছে। তারে একটু জাগাইয়া দিতে হইব।
সেই কণ্ঠস্বরের এবার বিস্ময় বাড়ছে- কে তর বন্থু? কি করে সে?
রুবেল- সেই বন্ধুরে আমি এখনও দেখি নাই। তবে এইটা বলতে পারি, সে যদি জেগে যায় তবে আপনাকে...... (মাথাটা নিচু করে আর কিছু মুখ থেকে বের হছে না রুবেল এর)।
রুবেলের নীরবতা দেখে কণ্ঠস্বরটি প্রবল চিৎকার করে উঠল- ওই তুই আমারে হুমকি দেছ.....!
এর মধ্যে আশেপাশের কিছু দোকানদার এসে কিছুটা ভিড় করলো। কেও কেও বলল- রুবেল, কি বলিস এসব? চুপ কর, চুপ কর...।
কণ্ঠস্বর থেকে আদেশ এলো- ওই তরা কে কোথায় দেখ তো অর নায়ক বন্ধু কই আছে.....? ওরে জাগাইয়া দে...!
রুবেলের দোকানটা সেদিন তসনস করে দেওয়া হল। রুবেল কেও প্রচণ্ড প্রহার করা হল। ক্যাশ ভেংগে টাকাও।
পরে যথারীতি পুলিশের হস্তক্ষেপ, মোকদ্দমা। আর সেই কণ্ঠস্বরযুক্ত ব্যক্তির কিছুদিন জেল।
সবাই কানাঘুসা করছিলো, জেল থেকে বেরিয়ে এলেই ওই ব্যক্তি রুবেলের উপর আবার ঝাঁপিয়ে পড়বে। আবার রক্তপাতের সৃষ্টি হবে।
হলও তাই, জেল থেকে ছাড়া পেয়ে-ই, সেই ব্যক্তি আবার রুবেলের দোকানে। তবে তার সাথে এখন কোন দলবল নেই। তবু-ও আশেপাশের কিছু দোকানদার চুপি চুপি দূর থেকে ওই ব্যক্তি কে দেখে-ই রুবেল কে পালাতে বলেছিল। কিন্তু রুবেল পালাবে কিভাবে? এই দোকান ই যে তার সব।
রুবেল মাথা নত করে আছে। সেই ব্যক্তি কাছে এলো। কিছুক্ষণ সময় দাড়িয়ে থাকল। কেও কেও দেখতে পেলো সেই ব্যক্তির চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
কিন্তু কিসের পানি সেটা কেও বোঝতে পারল না। এতোটুকই ধারণা ছিল নিশ্চয়ই রাগের বহিঃপ্রকাশ।
কণ্ঠস্বর থেকে এবার কান্নার আওয়াজ বেরিয়ে এলো- রুবেল, ভাই আমার, আমি পেরেছি। আমি জাগিয়েছি তোমার বন্ধুকে। সে জেগেছে। সে জেগে উঠেছে বন্ধু। আমি শেষ, আমাকে ধ্বংস করে দিয়েছে তোমার বন্ধু।
উপস্থিত সবার মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হল। কে জেগেছে, কি জেগেছে? কিসের বন্থু?
কণ্ঠস্বর থেকে এবার কান্নার আওয়াজ আরও বেগবান হল- সেই বন্ধুটি হল আমার বিবেক। তুমি যেই কথাটা শেষ করতে পারো নি তা-ই আমাকে জাগিয়ে দিয়েছে, আমি জেলে বসে শুধু তোমার কথাই ভেবেছি। আমার বিবেক আমার অসৎ কাজ গুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তুমি জয়ী, রুবেল তুমি জয়ী। তুমি আমাকে জাগিয়ে দিয়েছ। বিবেক জেগে থাকলে মানুষ অসৎ হতে পারে না। আমিও আর পারব না। আর যে বিবেক আজ জেগে আছে তা ঘুমাতে দিব না।
এমনও কি কোন রুবেল আছে, যারা বিবেক কে জাগিয়ে দিতে নিজের জীবনের সাথে পাল্লা ধরে... নাকি সবার হাতটাই নীরবে ক্যাশ বাক্সে প্রবেশ করে আর সেই কণ্ঠস্বরের হাতে গুজে দিয়ে সমাজে টিকে থাকে.....?
আমি কিন্তু জানি না কারণ আমারটা নিছক কল্পনা।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ কাঞ্চন বাজারে এমন কোন ঘটনা কখন ঘটে নাই । ইনশাহ আল্লাহ ঘটবেও না। তবে ইনশাহ আল্লাহ্‌ সকল কাজে বিবেক জেগে থাকবে। কাঞ্চনের পোলা তো তাই কাঞ্চন বাজারটাই বেশী চিনি। তাই গল্প বললেই কাঞ্চন বাজারের কথা চোখে ভেসে ওঠে।
প্রথম প্রকাশিত হয়

No comments: