পহেলা বৈশাখ, আমার বন্ধু হসপিটালে ভর্তি আর আমি ঢাকায় ঘুরছিলাম ব্লাড ব্যাংক এর খোজে, রক্ত লাগবে এ+ (এ পজেটিভ)।
( দাদা হাইসেন না গল্পটা আগে পড়েন............ )
সকালে কিছুই খাই নাই। বন্ধুর এক্সিডেন্টের খবর পাওয়া মাত্র বন্ধুর বাড়ি চলে এসেছিলাম। আর সেখান থেকে দ্রুত হসপিটালে।
ডাক্তার দেখা মাত্র বললেন- রক্ত লাগবে। হাতের কাছে রক্ত রাইখেন। আমাদের এখানে কিন্তু রক্ত নাই। তা, রোগীর রক্তের গ্রুপ কি?
আমরা এক কথায় বলে দিলাম- জানি না তো।
(দাদা হাইসেন না গল্পটা মাত্র শুরু....)
ডাক্তার বললেন- তবে তো মহা বিপদ! আপনাদের একজনকে এখনই কোন ‘ব্লাড ব্যাংকে’ পাঠিয়ে দিন। আর ইতোমধ্যে রোগীর রক্তের গ্রুপটা চেক করে দেখি। ফোনে রক্তের গ্রুপটা বলে দিলে দ্রুত কোন ‘ব্লাড ব্যাংক’ থেকে রক্ত কিনে আনতে পারবে...।
বন্ধুর বাবা আমাকে বললেন- নাজিম, তুমি এখনই ‘ব্লাড ব্যাংক’ এ চলে যাও। রক্তের গ্রুপ জানা মাত্র তোমাকে জানিয়ে দিবো।
আমি দ্রুতবেগে ছুটতে থাকলাম। সকালে যে, কিছু খাই নি, তা ভুলেই গেছি....। বন্ধুর বিপদ বলে কথা....!
ফোনে জানলাম, রক্ত লাগবে এ পজেটিভ (এ+)।
আমি এখানে সেখানে ছুটতে লাগলাম। বারবার বন্ধুর বাবা ফোনে জিঙ্গেস করছে- নাজিম, রক্ত পাইছো?
আমি- না চাচা, পাই নাই তো। এ+ (এ পজেটিভ) রক্ত কোথাও পাচ্ছি না...
বন্ধুর বাবা- এখানে আমরা যারা ছিলাম, সবার রক্তও পরীক্ষা করে ফেলেছি। কারো সাথে রক্তের গ্রুপ মিলে না বাবা। তুমি কিছু করো নাজিম।
আমি বেশ কয়েকটা ‘ব্লাড ব্যাংকে’এ ঘুরলাম। ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে গেলাম। তখন দুপুর গড়িয়ে বিকাল। চোখে মুখে হতাসা। খাবার-দাবার যে কিছুই হয় নি, ভুলে গেছি।
হঠাত চোখে পড়লো- ‘আমরা কাঞ্চন পৌরবাসী’ এর উদ্যোগে ফ্রিতে ব্লাড গ্রুপিং করা হচ্ছে। আমি লাইনে দাড়ালাম। টার্গেট, যার রক্তের গ্রুপ এ+ (এ পজেটিভ) পাবো, তাকে নিয়েই ছুটবো। আমার বন্ধু কে বাচাতে হবে।
ধীরে ধীরে লাইন শেষ হলো কিন্তু একটাও এ+ (এ পজেটিভ) এর লোক চোখে পড়লো না।
যথারীতি আমাকে ডাকা হলো, গেলাম। পরীক্ষা হলো, রেজাল্ট দিলো।
পরীক্ষক বলল- আপনার রক্তের গ্রুপ এ+ (এ পজেটিভ)।
আমি ক্ষণিকের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম।
ছুটতে ছুটতে গেলাম হসপাতালে। গিয়ে দেখলাম, আমার বন্ধুর অবস্থা বেগতিক।
ডাক্তারকে বললাম- ও ঠিক আছে তো?
ডাক্তার বললো- আসলে খুব দ্রুত রক্তের প্রয়োজন।
আমি- ডাক্তার সাহেব, আমার রক্তের গ্রুপ এ+(এ পজেটিভ)।
ডাক্তার- বলেন কি! আপনি তো কিছু খান নি, মনে হচ্ছে। আগে কিছু খান পরে আপনার রক্ত নিয়ে নিচ্ছি।
ডাক্তার বললো- আসলে খুব দ্রুত রক্তের প্রয়োজন।
আমি- ডাক্তার সাহেব, আমার রক্তের গ্রুপ এ+(এ পজেটিভ)।
ডাক্তার- বলেন কি! আপনি তো কিছু খান নি, মনে হচ্ছে। আগে কিছু খান পরে আপনার রক্ত নিয়ে নিচ্ছি।
আমি শুধু ছটফট করছিলাম। আর কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছিলাম।
আমাকে কিছু খেতে দেওয়া হলো। আমি খাচ্ছি আর কাদছি, আমার পাশে ডাক্তার বসে আছে।
হঠাত পাশের রুম থেকে নার্স এসে জানালো, রুগীর অবস্থা খুব খারাপ।
দ্রুত বেগে ডাক্তার চলে গেলেন।
আমি নড়তে পারলাম না। চোখ দিয়ে পানির ফোয়ারা বইছিল।
মনে মনে বলছিলাম- বন্ধু দেখ, আমি তোর কত খারাপ বন্ধু। তুই আজ মৃত্যুসজ্জায়। আর আমি বসে বসে খাচ্ছি।
একটু পর ডাক্তার ছুটে এলেন। বললেন চিন্তা করবেন না। আপনার রক্ত পেলেই আমরা অপারেশন শুরু করবো।
মনে একটু ভরসা পেলাম।
সেই যাত্রায় বন্ধুর প্রাণটা বেচেছিল।
( অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিচ্ছেন, আপনি জানেন কি, এই রোগীর প্রকৃত রক্ত দাতা কে.......?)
মনে রাখবেন পহেলা বৈশাখ, কাঞ্চনের মাঠে......

No comments:
Post a Comment